মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

চন্দনাইশ উপজেলার পটভূমি

চন্দনাইশ চট্টগ্রাম জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। চন্দনা্ইশের উপর দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রবাহমান। উপজেলার পূর্বাংশে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে রয়েছে বৃক্ষে আচ্ছাদিত পাহাড় ও বনজ প্রকৃতি কোন এক সময় এ অঞ্চল তথা দক্ষিণ চট্টগ্রাম বঙ্গোপসাগরের গর্ভে ছিল। প্রায় ২ হাজার বছর আগে এ স্থানের উদ্ভব ঘটে। আরাকান মগ শাসনামলে এটি ছিল একটি সামুদ্রিক বন্দর। উপজেলার মুন্সেফ বাজারে বার্মা (বর্মমান মায়ানমার) এবং মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ হতে আগত বণিকেরা এ অঞ্চলে উৎপাদিত সুদৃশ্য ও সুগন্ধী চন্দনের আঁশযুক্ত কাঠের ব্যবসা করত। কথিত আছে চন্দন কাঠের নামানুসারে  এ অঞ্চলের নামকরণ করা হয় চন্দনাইশ।

একদা চন্দনাইশ ছিল পটিয়া উপজেলা অবিচ্ছেদ্য অংশ।পটিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে ১৯৭৬ সালে চন্দনাইশ থানা জন্ম হয়।১৯৮৩ সালে চন্দনাইশ উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।  

৯টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে এ উপজেলা গঠিত। ধোপাছড়ি ইউনিয়নটি বান্দরবান ও রাঙ্গুনিয়া সংলগ্ন পাহাড়ী এলাকায়, দোহাজারী, হাসিমপুর ও কাঞ্চনাবাদ এ্ ৩টি ইউনিয়ন আংশিক পাহাড়ী ও সমতল এলাকায় এবং চন্দনাইশ পৌরসভাসহ  জোয়ারা, বরকল, বরমা, বৈলতলী ও সাতবাড়িয়া এ অঞ্চলগুলো সমতল এলাকায় অবস্থিত।

চন্দনাইশের উত্তরে পটিয়া ও রাঙ্গুনিয়া, দক্ষিণে সাতকানিয়া, পূর্ব দিকে বান্দরবান ও রাঙ্গুনিয়া এবং পশ্চিমে আনোয়ারা উপজেলা। উল্লেখ্য, বর্তমানে অত্র এলাকায় কোন সমুদ্রবন্দর ও চন্দন কাঠের অস্তিত্ব নেই। খনিজ সম্পদের মধ্যে সাদা মাটি ও বিভিন্ন জাতের মূল্যবান  পাথর এবং কাঞ্চনাবাদের নগর পাড়ার থামি ও গামছাজাতীয় তাঁতের কাপড় আগের মত আর চোখে পড়ে না। বন্য প্রাণির মধ্যে রয়েছে হাতি, হরিণ, বানর, হনুমান, শিয়াল বনমোরগ, ময়না ইত্যাদি।বনাঞ্চলের  লেবু ও আনারস এবং কাঞ্চননগরের পেয়ারা দেশময় পরিচিত। ব্রিটিশ শাসনামলে এক গভর্ণনের সদিচ্ছায় দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রথম ইরি চাষ হয় চন্দনাইশ এলাকাতেই। কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নে রয়েছে ‘পটিয়া টি গার্ডেন’।

সাতবাড়িয়া ও দক্ষিণ জোয়ারায় ‘হাতপাখা’ তৈরির কুটির শিল্প এবং উত্তর জোয়ারার কুমার পল্লীতে উৎপাদিত ‘হাঁড়ি-পাতিল তৈরির মৃৎশিল্প জন জীবনের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

বার আউলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত এ্ উপজেলারবিখ্যাত আলেম ওলামা হযরত শাহ আমিন উল্লাহ(রঃ), হযরত মোস্তান আলী শাহ (রঃ), হযরত হাফেজ আনছুর আলী (রঃ), হযরত আক্কেল আলী শাহ, গারাঙ্গীয়া দরবারের খলিফা, হযরত মাওঃ আবদুল্লাহ(হারলা) এ  পূণ্যভূমিতে জন্মগ্রহণ করেন।  খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রয়েছেন ভাষা সৈনিক প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম, মাওঃমনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী (রঃ), যতীন্দ্র মোহনসেন, এস.এম.সেন, জাজীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসিলাম, কবি ও সাহিত্যিক আহমদ ছফা প্রমূখ। উল্লেখযোগ্য স্থান বা স্থাপনার মধ্যে রয়েছে হযরত ভূই খাজা জামে মসজিদ, চাগাচর খান মসজিদ, জামিজুরী বধ্যভূমি, হাজারী দিঘী (দোহাজারী), খান জামে মসজিদ (বাগিচার হাট), সাতবাড়িয়া শান্তিবিহার, বরমার শুক্লম্বর দিঘী, জোয়ারার পাগলা গারদ। শঙ্খনদী ওচাঁনখালী নদী এ লাকার ঐতিহ্য বহন করে।

তথ্যসূত্রঃ ১) চন্দনাইশ মনীষা

            ২) দেয়াঙ পরগণার ইতিহাস-মোঃ জামাল উদ্দিন

           ৩) চন্দনাইশের স্মৃতিকথা