মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

চন্দনাইশ উপজেলার ভাষা ও সংস্কৃতি

ভাষা ও সংস্কৃতি

ভাষাঃ

একটি জাতি বা গোষ্ঠীর স্বকীয় মর্যাদা বহন  করে তার ভাষা ও সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে। ভাষাবিদদের ধারণামতে অঞ্চলভেদে ভাষারীতির ব্যবধান ও প্রচলন পরিলক্ষিত হয়। ভৌগোলিক অবস্থান জাতিগত সংকরায়নের কারণে চট্টগ্রামের ভাষার একটি আলাদা কদর ও পরিচিতি রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকে ওলন্দাজ, পর্তুগীজ, আরব বণিক, মারাঠা, ইংরেজ প্রভৃতি জাতি-গোষ্ঠীর বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আগমনের কারণে এ অঞ্চলের ভাষারীতির উপর ব্যাপক সংমিশ্রণ ও সংকরায়ন ঘটেছে। বিভিন্ন ভাষা ও মানুষের প্রভাবে চট্টগ্রাম তথা চন্দনাইশ এলাকায় স্বাতন্ত্র মিশ্র ভাষা হিসেবে ‘চাটগাইয়া ভাষা’ বা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার উদ্ভব হয়। প্রভাব বিদ্যমান যা  রূপ নিয়েছে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ‘র  ‘আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ মতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার রূপায়ণ হচ্ছে - এক বুইজ্জা কুইজ্জাত্তন গইরগাই গইরগাই দইজ্জাত ফইরগ্যাই। মানে-এক  বৃদ্ধ খরের স্তুপ হতে গড়িয়ে গড়িয়ে দরিয়ায় পড়েছে। তবে এ এলাকার মানুষ দেশের প্রচলিত ভাষায় স্বাচ্ছন্দে কথা বলতে পারে।

সংস্কৃতির ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র চন্দনাইশঃ

কবি আহমদ ছফার কাব্য নিদর্শন ও অন্যান্য সাহিত্যিকদের রচনা এ অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতিকে অনন্য রূপায়ণ করেছে।

ধর্মীয় লোকাচার - যা হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশি লক্ষ্য করা যায়। পূজা পার্বন-চড়ক, শীতলা, বাস্ত্ত, মনসা, শনি, কার্তিকব্রত/ইত্যুপুজা লক্ষ্মীব্রত, দামোদর ব্রত, শিবরাত্রী ব্রত, পাঁচু ঠাকুর, বাবাঠাকুর, ধর্মঠাকুর, আটেশ্বর, দক্ষিনা রায়, কালু রায়, মাকাল ঠাকুর, ঘেধু ঠাকুর বা ঘন্টা ঠাকুর, কর্ম ঠাকুর, জরাসুর, মানিকপীর, বড়খা গাজী, সাব বিবি, হাড়ির ঝি চন্ডী প্রভৃতি ধর্মীয় পাধন ও লোকাচার এই এলাকার এখনও প্রচলিত এছাড়া আচার প্রথা, পোষাক পরিচ্ছদ, আবাসন ব্যবস্থা, পেশা, জীবিকা প্রভৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র পরিলক্ষিত হয়।

 

উপজাতি জনগোষ্ঠীঃ

চন্দনাইশের বিশেষ করে ধোপাছড়ি অঞ্চলে বিভিন্ন উপজাতির বসবাস রয়েছে। চন্দনাইশ জনগোষ্ঠী ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন স্থানের অভিভাষীদের সমষ্টি। শিকড়ের সন্তান সঠিক অর্থে কে বা কারা সেটা বলাও সহজ নয়। দীর্ঘ কাল একসাথে বসবাস করতে করতে সমগ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক ধরনের সাযুজ্য তৈরি হয় তখন বৈশিষ্ট্য বা বৈচিত্র বিশেষ ভাবে চোখে পড়ে না। বিভিন্ন ক্ষুদ্র বা মূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিবাহ বা সম্পর্কগত যোগাযোগের মাধ্যমে একাত্ম হওয়ার ফলে কখনও নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠীকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে নৃতাত্ত্বিক বলে ভ্রম হয়। কিন্তু চন্দনাইশে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী ত্রিপুরা, মারমা ও খেয়াং সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ বাস রয়েছে এবং বিভিন্ন ধরণের উপভাষার প্রচলন রয়েছে।